প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। গ্রাহক, আপনি কি কিছু তথ্য আমাদের জানাতে পারেন? আপনার শিশুর বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন ঠিক আছে কি? বাচ্চা দৌড়াদৌড়ি করে খেলাধুলা করে কি?  ছোট বাচ্চাদের না খেতে চাওয়া একটি মায়ের জন্য অনেক দুশ্তিন্তার কারন। কিছু কৌশলের মাধ্যমে সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। শিশুকে গালগপ্প বলতে বলতে খাওয়ানো যায়। তবে তা অবশ্যই টিভি বা মোবাইল ফোনের সামনে বসিয়ে না। এতে সে খাবারের রং, স্বাদ চিনবে না। স্বাভাবিকভাবে খাবার চিবিয়েও খাবে না। মোট কথা, খাওয়ার আনন্দ থেকে সে বঞ্চিত হবে। যদিও এতে তার খাওয়ার পরিমাণ বাড়বে। দ্বিতীয়ত, অন্তত চার থেকে ছয় ঘন্টা অন্তর একেকটি মিল দেওয়া উচিত। মিল মানে একটি আইটেম নয়। বরং কয়েকটি আইটেমের সমন্বয়, যেখানে তার প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি মিলবে।যেমন: সকালে ডিম, রুটি, ডাল। একটু মিষ্টি জাতীয় কিছু যেমন কলা, সেমাই বা আপেল সেদ্ধ। সবগুলো আইটেম একটু একটু করে খেলেও বাচ্চার পেট ভরে যাবে। এরপর দিতে হবে চার ঘণ্টার গ্যাপ। চিকেন স্যুপ শিশুরা খুব পছন্দ করে খায়। সাথে একটু টম্যাটো বা মাশরুম দিয়ে দিলে তা হবে তার জন্য একটি হেলদি ডায়েট। সাথে থাকতে পারে এক টুকরা আলু সেদ্ধ বা ভাত। এমনকি ডাল দিয়ে ভাত চটকে তাতে লেবুর রস দিয়ে দিলেও সেটি শিশুকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিতে সক্ষম। পাশাপাশি থাকবে চিজ, দই, দুধ, পায়েস ইত্যাদি। কৃত্রিম ফলের রস, চকলেট, চিপস শিশুরে ক্ষুধা নষ্ট করে। এগুলোর পুষ্টিমানের বিষয়েও কোনোভাবে বাড়ির রান্না করা খাবারের সাথে তুলনা চলে না। সকাল, দুপুর, বিকাল বা রাতের খাবারের এক ঘণ্টা আগেও যদি তাদের এসব খাবার দেওয়া হয়, তবে তা শিশুর ক্ষুধা নষ্ট করবে। তাই বড় মিলগুলোর মাঝখানে আর কোন খাবার নয়, শুধু পানি। শিশুকে নিজে নিজে খেতে উত্‍সাহিত করবেন,  বাবা-মা ও পরিবারের সবার সাথে শিশুকে একসাথে খেতে বসানোর চেষ্টা করবেন। সে ফেলে, ছড়িয়ে খেলেও তাতে বাধা দ্ওেয়া যাবে না। এভাবেই সে সবার সাথে, সব ধরনের সাধারণ খাবারে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। দুই আড়াই বছর পর্যন্ত শিশুর স্বাভাবিক খাবারের সাথে মায়ের দুধ, গরুর দুধ বা ফর্মুলা মিল্ক চলতে থাকে। অনেক শিশু স্বাভাবিক খাবারের চেয়ে দুধের প্রতিই আসক্ত থাকে বেশি। কিন্তু মায়ের দুধ ছাড়ার পর সাধারণত শিশুর স্বাভাবিক খাবারের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। এ সময় তার জন্য আলাদা করে কোন কিছুই রান্নার প্রয়োজন নেই। সে পুরো বড়দের খাবারই খেতে পারবে। তবে বিকেলের টিফিনের বৈচিত্র্য আনা যায় ঘরে তৈরি চিকেন ফ্রাই, ফেঞ্চ ফ্রাই, পাউরুটি টোস্ট, কলা বা আম দিয়ে দুধ ভাত ইত্যাদি দিয়ে। দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত শিশুর শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা থাকে সর্বাধিক। এ সময় তাদের হাড়ের গঠন হয়। তাই দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার রাখতে হবে তার খাদ্য তালিকা। বাচ্চার কৃমির সমস্যা আছে কিনা খেয়াল রাখবেন, সঠিক সময়ে সঠিক ডোজে পরিবারের সবাই কৃমির ঔষধ খাবেন। বাচ্চাকে যথেষ্ট পরিমাণে প্রতিদিন দৌড়াদৌড়ি করে খেলাধুলা করার সুযোগ করে দিতে হবে। পরিশ্রম করলেই ক্ষুধা লাগবে এবং নিজ থেকে আগ্রহ করে খেতে চাইবে।  আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আপনার বাচ্চার পরবর্তী শারীরিক অবস্থা আমাদের জানাবেন।  ধন্যবাদ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও