প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।শিশুর বয়স কত? আপনার শিশু খাবার খেতে চায় না তাই আপনি দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। আপনার সাহায্যের জন্য নিচে বিস্তারিত ভাবে তথ্য প্রদান করা হলঃ প্রায় সব পরিবারে শিশুকে নিয়ে মায়েদের একই অভিযোগ, ‘আমার বাচ্চা একেবারেই খেতে চায় না।’ শিশু কী কী সাধারণ কারণে খেতে চায় না... * শিশুটির ক্ষুধা নেই: ক্ষুধা না থাকলে শুধু শিশু কেন, বড়রাও খেতে চায় না। * শিশুটি অসুস্থ : অসুস্থ হলে খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়- এই সাধারণ অভিজ্ঞতা সবারই আছে। সাধারণ অসুখগুলোর মধ্যে সর্দি-কাশি-জ্বর এবং ডায়রিয়া প্রধান। * খাবারটি শিশুর জন্য উপযুক্ত বা উপাদেয় নয় : খাবার যদি শিশুর জন্য উপযোগী না হয়; যেমন- বেশি মশলা ও ঝালযুক্ত খাবার * শিশুটি মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত : কোনো কারণে ভয় পাওয়া, পরিচিত পরিবেশ বা লোকজনের বাইরে অন্য কোনো পরিবেশ বা লোকজনের মধ্যে যাওয়া, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া বা মারামারি দেখা, ভয়ংকর বা ভয় পাওয়ার মতো কোনো দৃশ্য দেখা ইত্যাদি কারণে শিশু খাবারের প্রতি অনীহা দেখাতে পারে। এটা সাময়িক। এরপরও যদি মনে হয় আপনার শিশু খেতে চাইছে না, তাহলে নিচের বিষয়গুলো চেক করুন- * শিশুটি কি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছে * শিশুর সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর, ডায়রিয়া হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন। শিশুর ঠোঁট, জিহ্বা এবং মুখের ভেতরে ঘা বা অস্বাভাবিকতায় ডাক্তারের পরামর্শ নিন। শিশু নিয়মমতো এবং স্বাভাবিকভাবে প্রস্রাব-পায়খানা করছে কিনা লক্ষ করুন। শিশু খাবারের মাঝে বা পরে বমি করছে কিনা তা দেখুন। খাবারের পর শিশু স্বাভাবিক আচরণ করে কি না খেয়াল করুন। শিশু কখনও পেটে ব্যথার কথা বলে কি না লক্ষ করুন। এ রকম হলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। * শিশু শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ আছে কিনা, তা বোঝার সহজ উপায় হল- শিশুটি অন্য দশটা শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা, লাফালাফি, চপলতা, চেঁচামেচি করে। * শিশুর খাবার কি তার জন্য উপযুক্ত ও রুচিকর। শিশুর জন্য তৈরি করা খাবার নিজে একটু মুখে দিন। শিশু যদি বিশেষ কোনো স্বাদ বা গন্ধের খাবার অপছন্দ করে তাহলে এরকম খাবার তাকে দেবেন না। শিশুর খাবারের ব্যাপারে মা-বাবা এবং অভিভাবকদের কী করা উচিত। * সব সময় শিশুর খাবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে তৈরি করবেন। * জন্মের পর থেকে কখনোই শিশুকে জোর করে খাবার খাওয়াবেন না এবং চেষ্টাও করবেন না। শিশুকে খেতে দিন ওর নিজের চাহিদা এবং ইচ্ছেয়।* আলাদাভাবে খেতে না দিয়ে পরিবারের অন্য শিশু এবং বড়দের সঙ্গে শিশুর নিজস্ব প্লেট এবং গ্লাসে খেতে দিলে খাবারের প্রতি শিশু সিরিয়াস হয়ে উঠবে। এক্ষেত্রে নিজ হাতে ওর প্রয়োজন এবং রুচি অনুযায়ী খাবার খাওয়ার সুযোগ পায়। * টেলিভিশন দেখিয়ে দেখিয়ে শিশুকে খাওয়ানোর অভ্যাসটা ক্ষতিকারক। * ফাস্ট ফুড, ফ্রোজেন ফুড, ক্যান্ডি, আইসক্রিম যথাসম্ভব কম খাওয়ানোই ভালো। অল্প খরচে শিশুর জন্য পুষ্টিকর এবং উপাদেয় খাবার ঘরে তৈরি করা যায়; এমনকি ফাস্ট ফুডও স্বাস্থ্যকরভাবে ঘরেই তৈরি করা যায়। * অনেক শিশুই শাক-সবজি খেতে চায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ছোটবেলা থেকে শাক-সবজি খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ার অভাবে এমন হয়। শিশুর বয়স ৬ মাস হওয়ার পর থেকেই অন্য খাবারের সঙ্গে অল্প অল্প করে শাক-সবজি খাওয়ানোর অভ্যাস করানো জরুরি। * শিশুকে সব ধরনের ফল খাওয়ানোর অভ্যাস করানো ভালো। দেশী ফল খুব সস্তায় পাওয়া যায়, এতে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলস থাকে। * মাংসের চেয়ে তাজা মাছ (ফরমালিনমুক্ত) বেশি উপকারী। * শিশুরা সাধারণত বিচিত্র ধরনের খাবার খেতে চায়। ভিন্ন স্বাদ, ভিন্ন গন্ধ, ভিন্ন রকম দেখতে, ভিন্ন রকমের কম্পোজিশন ইত্যাদি। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও