গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার শিশুর ওজন কত?  গবেষনায় দেখা গেছে, যেসব বাচ্চারা জন্মের পর পূর্ন ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খায় এবং ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি ঘরের তৈরী সকল বাড়তি খাবার খায় তাদের ব্রেন ভাল হয়, বুদ্ধিমান হয়। সাধারনত ৬ মাস থেকে ১২ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির অর্ধেক চাহিদা এবং ১২ মাস থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির এক তৃতীয়াংশ চাহিদা পূরণ হয় মায়ের দুধ থেকে। ৬ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার পর শুধু মায়ের দুধ শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারে না। এ সময় ঘরের তৈরি খাবার শুরু করতে হয়, সেইসাথে মায়ের বুকের দুধ খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে ২ বছর পর্যন্ত। এসময় খাবারটি যখন পুষ্টিকর ও সহজে হজমযোগ্য হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। খাবারটি যেন অতিরিক্ত পাতলা না হয় তাও দেখতে হবে। পাতলা খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হয়। এই সময় সুজি, সাবুদানা, ওটস, সেরেলাক খাওয়ানোর অভ্যাস না করে - ১। বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক  খাবার থেকে বাচ্চার জন্য ঘরের তৈরী বাড়তি খাবার তৈরী করবেন। ২। তাকে  প্রতিদিন কমপক্ষে একবার প্রানীজ উত্স থাকে খাবার দিবেন। যেমন - ডিম, ছোট বা বড় মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি। ৩। বাচ্চার জন্য খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে পারেন। খিচুড়িতে শাক, সবজি, মাছ/ মাংস/ ডিম/ কলিজা, পরিমানমত তেল, মসলা দিবেন।৪। রান্না করা খাবার থেকে খুব সহজেই বাড়তি খাবার তৈরি করা যায়। যেমন - রান্না করা বিভিন্ন খাবার (ভাত, মাছ/মাংস - ১ টুকরা অথবা ডিম - ১টি, রান্না ডাল, রান্না সবজি) মিশিয়ে এই খাবার তৈরী করতে পারবেন। ৫। বাড়তি খাবারের সাথে মৌসুমি ফলও খাওয়াবেন। বাচ্চা সব ধরনের ফল খেতে পারবে। তবে জুস না করে দিয়ে টুকরা টুকরা করে কেটে বাচ্চাকে খেতে দেয়া ভাল। বাচ্চাকে মাঝে মাঝে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের খাবার দিবেন, এতে করে তার খাবারে রুচি থাকবে। ৬। ৯ থেকে ১১ মাস বয়সের শিশুকে আধা বাটি করে দিনে ৩ বার এবং ১২ থেকে ২৩ মাস বয়সের শিশুকে এক বাটি করে দিনে ৩ বার পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে। এছাড়া সব শিশুকে ১-২ বার  পুষ্টিকর নাশতা দিতে হবে। বিস্কুট, পিঠা, সেমাই, পায়েস, ফিরনি, ক্ষীর, পুডিং, হালুয়া, ইত্যাদি নাশতা হিসেবে দেয়া যায়। ৭। বাচ্চাকে জোর করে খাওয়াবেন না। ৮। বাহিরের খাবার খাওয়াবেন না। এতে করে সে ঘরের খাবার খেতে চাইবে না। কাজেই বুঝতেই পারছেন যে আপনার বাচ্চাকে সুজি, সাবুদানা, ওটস খাওয়ালে তার সঠিক পুষ্টি চাহিদা পূরন হবে না। কেননা এতে আছে কেবল মাত্র শর্করা কিন্তু আমিষ, ভিটামিন, মিনারেলস কোনটাই নেই। আর বাচ্চাকে ল্যাকটোজেন বা অন্য কোন দুধ খাওয়ানোর কোনই প্রয়োজন নেই। এইভাবে বাচ্চাকে খাওয়ালে তার সকল ধরনের পুষ্টি চাহিদার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে হবে। আর কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদেরকে করতে পারেন। ধন্যবাদ।মায়া

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও