আপনার বাবু কি বুকের দুধ খায় ? নাকি ফর্মুলা মিল্ক খায়?গ্রাহক, পেটে গ্যাস জমে নবজাতক শিশু এমন  করতে পারে।  জন্মের তিন মাস পর্যন্ত নবজাতকের গ্যাসের সমস্যা খুবই স্বাভাবিক কারণ এ সময় বাচ্চার পরিপাক তন্ত্র ধীরে ধীরে সুগঠিত হয়।      বিভিন্ন কারণে এইসময়  প্রায় সব শিশুরই গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।যেমন ঃ• বোতলের দুধের মুখে ফেনা জমে থাকলে সেই ফেনার মাধ্যমে শিশুর পেটে বাতাস গিয়ে গ্যাস হতে পারে।• শিশু অতি দ্রুত দুধ খাওয়ার ফলে শিশুর পেটে বাতাস ঢুকার সম্ভাবনা থাকে, ফলে গ্যাস হয়।মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার সময় ঠিকভাবে নিপলের পুরো কাল অংশসহ মুখে না নিলে শুধু নিপল চুষলে ও শিশুর পেটে  গ্যাস হতে পারে। • অতিরিক্ত কাঁদার ফলেও পেটে বাতাস যাওয়ার মাধ্যমে শিশুর গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়।• জন্মের পর শিশুর পরিপাকতন্ত্র গঠণ প্রক্রিয়াগত অবস্থায় থাকে। ফলে মায়ের দুধের প্রোটিন ও চর্বি হজমেও কারো কারো গ্যাস হতে পারে।• শিশুকে অতিরিক্ত খাওয়ানোর ফলেও শিশুর গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।• ফর্মুলা দুধে মিষ্টি বেশি থাকলেও শিশুর গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।এই সমস্যার জন্য শিশুকে খাওয়ানোর সময়  কিছু নিয়ম মেনে চলুন ঃ-- দুধ বুকের হোক বা ফিডারের হোক নিপলের দিকে খেয়াল রাখতে হবে যেন শিশুর মুখের চারপাশে ফাঁকা না তাকে অর্থাৎ বাতাস না ঢুকতে পারে।দুধ খাওয়ানোর সময় সঠিক পজিশন মেনে চলতে হবেদুধ খাওয়ানোর সময় বাচ্চাকে এমন ভাবে ধরুন, যেন বাচ্চার মুখ উপরিভাগে ও পেট মুখের চেয়ে নিচের দিকে থাকে। তাহলে দুধ সহজে বাচ্চার পেটে প্রবেশ করবে ও বাতাস বের হয়ে আসবে। বোতলের দুধ খাওয়ানোর সময়ও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।-- খাওয়ানোর সাথে সাথে ঢেঁকুর তুলতে হবেশিশুকে টানা অনেকক্ষণ দুধ খাওয়ানো যাবে না। প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর বিরতি দিয়ে বাচ্চার ঢেঁকুর তোলার চেষ্টা করুন। এতে পেটের ভেতরের গ্যাস বের হয়ে যাবে। ঢেঁকুর তোলার জন্য বাচ্চাকে এমনভাবে কাঁধে নিন, যেন তার পেট আপনার কাঁধে থাকে এবং হালকা পিঠ মেসেজ করে দিতে পারেন।-- ক্ষুধা লাগলে সাথে সাথে খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবেশিশুর ক্ষুধা লাগলে সাথে সাথে খাওয়াতে হবে। সাধারণত ক্ষুধা লাগলে শিশু কান্নার মাধ্যমে তা প্রকাশ করে। কিন্তু সাথে সাথে যদি তাকে না খাওয়ানো হয় তাহলে সে অনেকক্ষণ ধরে কেঁদে যেতে পারে। ফলে কান্নার মাধ্যমে পেটে বাতাস ঢোকার ফলে গ্যাস হতে পারে।-- গ্যাসের সমস্যা হলে শিশুর পেট মালিশ করে দিতে হবেশিশুর গ্যাসের সমস্যা দূরীকরণে পেট মালিশ দারুন উপকারী। পেট উপরের দিকে রেখে শিশুকে শুইয়ে দিন এরপর শিশুর পেটে হাত দিয়ে আলতো করে চেপে ঘড়ির কাটার দিকের নিয়ম অনুসারে চক্রাকারে ঘুরাতে হবে। এতে শিশুর গ্যাসের সমস্যা দূর হবে।-- বেবি বাইসাইকেল থেরাপি দিতে পারেনবেবি বাইসাইকেল থেরাপি দেয়ার জন্য শিশুকে চিৎ করে শোয়াতে হবে এরপর শিশুর পা দুটো উচিয়ে ধরে সাইকেল চালানোর মতো নাড়াতে হবে। এতে শিশুর পেট থেকে গ্যাস বেরিয়ে যাবে।নবজাতকের গ্যাসের সমস্যা যদি অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাহলে অতি দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও